শনিবার, ০৪ Jul ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
অর্থনীতি ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : সরবরাহ কমে যাওয়ায় ও যোগানের কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ায় অন্যসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি রাজধানীর বাজারে বেড়েছে সবজির দাম। বাজার ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট কাঁচাবাজার, জিগাতলা কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র উঠে এসেছে।
দেশে করোনা রোগীর মৃত্যুর খবর জানার পর হঠাৎ করেই বেড়েছে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম। ক্রেতাদের মতে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট, পাইকারি বাজারে জোগানের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কিনে মজুত করার প্রতিযোগিতার কারণে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।
আর বিক্রেতারা বলছেন, দেশে করোনা আতঙ্কে সবজির সরবরাহ কমেছে। এ কারণে দাম বেড়েছে। অনেক জেলা থেকে পণ্য আসছে না। আবার চাষিরাও পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা৷
রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি হিসেবে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। প্রতি কেজি চিচিঙ্গা ১০ টাকা বেড়ে ১১০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে৷ শিমের দাম গত সপ্তাহে ছিলো ৫০ টাকা, আজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। কাঁচামরিচ ১৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে৷ গাজর ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায়, পেঁপে ৪০ টাকা, কচুর লতি ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। পাইকারি বাজারে বেগুন ১০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায়, উস্তে ১০০ টাকায়, গাজর ৬০ টাকায়, শসা ১০ টাকা বেড়ে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
লাউ প্রতি পিস আগের সপ্তাহের তুলনায় আকারভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, জালি কুমড়া ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায়, প্রতি পিস বাঁধাকপি-ফুলকপি ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়।
নিউমার্কেট খুচরা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব পণ্য পাইকারি বাজারের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।
কথা হয় নিউমার্কেট কাঁচা বাজারের বিক্রেতা রহিম মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে৷ সকালে কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখি প্রতি কেজি সবজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা দাম বেড়েছে। তাই খুচরা বাজারে দাম বেশি রাখতে হচ্ছে। আমাদের এখানে মালামাল আনার জন্য পরিবহন খরচ, তারপর কয়েক জায়গায় চাঁদাও দিতে হয়। যার প্রভাব পড়ে পণ্যের দামে।
বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা আব্দুল্লাহ সরদার বলেন, দেশে সবাই এখন করোনা আতঙ্কে ভুগছেন এটা ঠিক। কিন্তু এজন্য পণ্যের দাম এতো বাড়বে এটা ঠিক না। আমার মনে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের একটি মহল সিন্ডিকেট করে এই দাম বাড়িয়েছে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, করোনার কারণে আমাদের অনেকেরই কাজকর্ম বন্ধ আছে। তাই বাজার সরকারকে নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। তা না হলে সাধারণ জনগণের ভোগান্তির শেষ থাকবে না।
এদিকে রাজধানীর জিগাতলা কাঁচাবাজার ঘুরেও সবজির বাড়তি দামের চিত্র দেখা গেছে। পাইকারি বাজারের তুলনায় এই বাজারেও ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দাম রাখা হচ্ছে সব সবজিতে৷
মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫৮০ টাকা, মহিষের মাংস ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০ টাকা। এছাড়া প্রতিকেজি বয়লার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা, লেয়ার ২০ টাকা বেড়ে ২৪০ টাকা, সোনালি ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
নগরকন্ঠ.কম/এআর